দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুন্সিগঞ্জে চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এর সঙ্গে মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বর ও শুকনো কাশির প্রকোপও বেড়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও মশারি সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও স্বজনরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রায় ৬ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও চার শতাধিক রোগী। অন্যদিকে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি রোগী।
আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ ইসলামপুর, খালিস্ট, মিরকাদিম পৌর এলাকা, নতুনগাঁও, মিরেশ্বর, মহাকালী ও পঞ্চসার ইউনিয়ন থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার মান সন্তোষজনক নয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক রোগীর সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জুলাই মাসজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পাঁচটি ডেঙ্গু আইসোলেশন কক্ষে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪ জন রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভর্তি হন ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন, মার্চে ৪ জন, এপ্রিলে ৩৯ জন, মে মাসে ৩৫ জন এবং জুনে ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী। জুলাইয়ে এসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীর শরীরে দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় সুস্থ হতে সময় বেশি লাগছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীদের প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
পাঁচ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগী তাসনিম আক্তারের মা সুমি বেগম বলেন, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতিও কম থাকে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. সাইদুর রহমান হিমেল বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। তিনি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্যালাইন, মশারি ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় হাসপাতাল সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
মিরকাদিম পৌর প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এমএস/